আলীকদমে নারী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি:

Date: সোমবার, জানুয়ারী ০৫, ২০২৬
news-banner
বান্দরবানের আলিকদম উপজেলায় ৪নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে ইয়াংরি মাইক্রো পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে চরম অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সহকারী শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী যোগ্যতার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব মংমংহ্রী মার্মাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ আদেশ আগামী ০১/০১/২০২৬ ইং তারিখ হতে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, পূর্বের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশ অমান্য করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০/০২/২০১৯ ইং থেকে ০১/০১/২০২৫ ইং পর্যন্ত সময়কালে বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বহিতে বিষয়টির কোনো প্রমাণও পাওয়া যায় না। অথচ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ছাড়ার সময় হঠাৎ করে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, যা প্রশ্নবিদ্ধ।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড বক্স ও খেলাধুলার সামগ্রী বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে সংরক্ষণ না করে নিজ বাসভবনে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে, যা সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হলেও, বিষয়টি ইতিপূর্বে ২০২৪ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় বিষয়টি সমাধান হয় বলে জানা গেছে। তবে পুনরায় একই অভিযোগ তুলে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। বিদ্যালয়ের উপস্থিতি খাতায় তার স্বাক্ষর পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো— সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ এবং এমনকি হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণাদি রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ গরু ও কাঠ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং ওই ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় সহকারী শিক্ষকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এসব মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এসব ঘটনার সূত্রপাত।
অভিভাবকদের দাবি, উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার নাম করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসময়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: কামাল হোসেন বলেন অভিযুক্ত দুই শিক্ষকদের বিষয়ে তদন্ত করে বিষয়টি আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave Your Comments